পাকিস্তানে নারী ও শিশুদের ওপর সহিংসতা ও নির্যাতনের একের পর এক ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন দেশটির বিনোদন অঙ্গনের তারকারা। সম্প্রতি পাঁচ বছর বয়সী এক শিশু ও ৪৫ বছর বয়সী এক নারীর হত্যাকাণ্ড দেশজুড়ে আলোড়ন তৈরি করেছে। এসব ঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রতিবাদ জানিয়ে দ্রুত বিচার, কঠোর শাস্তি ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন অভিনেতা, গায়ক ও টেলিভিশন তারকারা।
খাইবার পাখতুনখাওয়ার হারিপুরে নিখোঁজ হওয়ার কয়েক দিন পর পাঁচ বছর বয়সী এক শিশুর মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় তিন কিশোরকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পুলিশের দাবি, তাদের একজন শিশুটিকে যৌন নির্যাতনের কথা স্বীকার করেছে।
অন্যদিকে রাওয়ালপিন্ডিতে ৪৫ বছর বয়সী হিনা জাভেদকে তার অ্যাপার্টমেন্টে মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়। এ ঘটনায় তার স্বামী ও এক গৃহকর্মীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তার শ্বশুরকেও তদন্তের আওতায় রাখা হয়েছে।
পরপর এসব ঘটনায় পাকিস্তানের তারকারা প্রশ্ন তুলেছেন—আর কত নারী ও শিশুর প্রাণ গেলে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হবে?
অভিনেতা আহসান খান সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নারী ও শিশুদের বিরুদ্ধে সহিংসতার ঘটনা নিয়মিত ঘটায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। গায়িকা আইমা বেগ বলেছেন, প্রতিটি ভুক্তভোগী কেবল একটি সংবাদ শিরোনাম নন; তারা কারও সন্তান, পরিবারের সদস্য কিংবা প্রিয়জন। তাদের মৃত্যুর কারণে স্বজনদের যে অপূরণীয় ক্ষতি হয়, সেটিও বিবেচনায় নেওয়া উচিত বলে মন্তব্য করেন তিনি।
অভিনেত্রী মরিয়ম নাফিস নারী ও শিশুদের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। অন্যদিকে অভিনেত্রী নাদিয়া জামিল বলেন, এ ধরনের সহিংসতা পাকিস্তানে দীর্ঘদিনের সমস্যা এবং এটি এখন ভয়াবহ সামাজিক ব্যাধিতে পরিণত হয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে অপরাধী ভুক্তভোগীর পরিচিত বা কাছের মানুষ হওয়ায় নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ আরও বাড়ছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
ধর্ষণ ও হত্যার মতো অপরাধে দ্রুত ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন অভিনেত্রী ঝালাই সারহাদি। র্যাপার তালহা ইউনুস শুধু নিন্দা জানিয়ে থেমে না থেকে তদন্ত ও বিচারব্যবস্থায় সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার মতে, তদন্ত হতে হবে স্বাধীন ও প্রভাবমুক্ত। পাশাপাশি জবাবদিহির আওতায় থাকা পুলিশ, সক্রিয় প্রসিকিউশন এবং ভুক্তভোগীদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা জরুরি।
অভিনেত্রী সাবিনা ফারুকও ন্যায়বিচার নিশ্চিত না হলে সাধারণ মানুষকে প্রতিবাদে নামার আহ্বান জানিয়েছেন। টেলিভিশন উপস্থাপিকা শাইস্তা লোধি পাকিস্তানে নারীদের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে হতাশা প্রকাশ করেছেন।
অভিনেত্রী সারওয়াত গিলানি বলেন, শিশুদের নিরাপদ রাখা পুরো সমাজের সম্মিলিত দায়িত্ব। তিনি ছেলেদের ছোটবেলা থেকেই নিজেদের আচরণ ও কাজের জন্য জবাবদিহির শিক্ষা দেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেন। অভিনেত্রী আয়েশা ওমরও নারীদের পাশাপাশি শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুরুষদের দায়িত্বশীল ভূমিকার কথা বলেছেন।
অভিনেত্রী জারা নূর আব্বাসের ভাষ্য, এ ধরনের অপরাধের বিরুদ্ধে সমাজের নীরবতাও প্রশ্নের মুখে পড়া উচিত। তার মতে, নির্যাতনের ঘটনা সামনে আসার পরও যারা নীরব থাকেন, তারাও কোনো না কোনোভাবে দায় এড়াতে পারেন না।
পাকিস্তানে নারী ও শিশু নির্যাতনের ঘটনায় তারকাদের প্রতিবাদ অবশ্য নতুন নয়। চলতি আগস্টে করাচিতে এক শিশুকে ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনায়ও দেশটির বিনোদন অঙ্গনের তারকারা ক্ষোভ প্রকাশ করেছিলেন। এর আগে জুনেও শিশু হত্যা ও এক চিকিৎসকের ওপর অ্যাসিড হামলার ঘটনায় তারা প্রতিক্রিয়া জানিয়েছিলেন।
শিশু অধিকারবিষয়ক সংগঠন সাহিলের এক প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত পাকিস্তানে শিশু নির্যাতনের ১ হাজার ৯১৪টি ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে। এর মধ্যে যৌন নির্যাতনের ঘটনা ১ হাজার ১৫টি, অপহরণ ৫৫৮টি, নিখোঁজ ১০১টি এবং বাল্যবিবাহের ঘটনা ৩৫টি।
এসএস




Comments